সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) ২০৩০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলার সম্পদের অধিকারী হতে পারে। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সভেরেন ওয়েলথ ফান্ড বা সার্বভৌম সম্পদ তহবিল অবস্থান দখলে নেবে সংস্থাটি। সম্প্রতি এ পূর্বাভাস দিয়েছে গ্লোবাল এসডব্লিউএফ নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা। খবর আরব নিউজ।
পিআইএফ বর্তমানে ৯২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সম্পদের অধিকারী, যা দশকের শেষ নাগাদ দ্বিগুণ হতে পারে। সার্বভৌম তহবিল হিসেবে ২০২৪ সালে পিআইএফের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।
প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুসারে, ২০৩০ সালে পিআইএফের সম্পদ গ্লোবাল সভেরেন ওয়েলথ ফান্ডের মোট সম্পদের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। ওই সময় এ ফান্ডের আকার হবে ১৯ লাখ কোটি ডলার।
গ্লোবাল এসডব্লিউএফের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েগো লোপেজ বলেছেন, ‘পুঁজি আরো পুঁজি আকর্ষণ করে। তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বৃহৎ ব্যালান্স শিট ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সংস্থার অংশীদার হতে আগ্রহী।’
২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি ডলার সম্পদের লক্ষ্য অর্জনে পিআইএফ জ্বালানি তেল আয়, ঋণ ইস্যু ও বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সমন্বয় করবে বলে জানানো হয়েছে।
দিয়েগো লোপেজ বলেন, ‘সৌদি পুঁজিকে স্থিতিশীল, বৈচিত্র্যময় ও জ্বালানি তেলের দামের পতনের সঙ্গে নমনীয় হতে হবে। ’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-২২ সালের মধ্যে পিআইএফের ১০ বছরের বার্ষিক গড় রিটার্ন ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী সভেরেন ওয়েলথ ফান্ডের গড় বার্ষিক রিটার্ন ৫ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় বেশি।
সাম্প্রতিক দশকে জ্বালানি তেলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পথে হাঁটঁছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে নিওম, রেড সি প্রজেক্ট ও কিদ্দিয়ার মতো উচ্চাভিলাষী মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতি সম্প্রসারণ করছে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও বাজার অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ওইসিডি গত বছরের জন্য ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা চলতি বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। আইএমএফ পাঁচ বছরের জন্য ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দিয়েছে, যা চীন, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে দুর্বল প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। উন্নত বাজারগুলো মুদ্রানীতি সংকোচনের কারণে ধীর গতিতে বাড়ছে, তবে উন্নয়নশীল অর্থনীতি বেশি স্থিতিশীল রয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরো জানিয়েছে যে বৈশ্বিক সার্বভৌম তহবিলগুলো প্রথমবারের মতো ১৩ লাখ কোটি সম্পদের অধিকারী হয়েছে। এ মূলধন দুটি প্রধান অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত—গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলে ৩৮ শতাংশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১০ শতাংশ।
গ্লোবাল এসডব্লিউএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিসিসি-সাউথইস্ট এশিয়া অক্ষ আগামী দিনে সভেরেন ওয়েলথ ফান্ডের প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেবে।